ঝোপঝাড়ে ঢাকা সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়ক, বিপদজনক চলাচল

    স্টাফ রিপোর্টার:
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 1, 2026 ইং 4 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728

সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের দুই ধারে অতিরিক্ত ঝোপঝাড় ও আগাছা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দৃষ্টিসীমা কমে গিয়ে প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনা ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরজমিন দেখা গেছে, সিলেট-চারখাই-বিয়ানীবাজার সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড়। কোথাও একদম সড়কের ওপর চলে এসেছে গাছ, লতাপাতা। এসবের কারণে সড়কের দুই পাশে কোনো জায়গা খালি নেই। মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয় পথচারীদের। যানবাহন এলে পথচারীদের আর সরে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। অন্যদিকে পথে পথে অনেক বাঁক। ঝোপঝাড়ের কারণে বাঁকের উল্টো দিকে কী আছে, দেখার সুযোগ নেই। এ রকম অবস্থায় পথচারী ও যানবাহনের চলাচল যেমন বিঘ্নিত হয়, তেমনি প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। ঝোপঝাড়ের কারনে সম্প্রতি শেওলা সেতুর কাছে দূর্ঘটনা কবলিত হন বিয়ানীবাজারের জনপ্রিয় ডাক্তার আবু ইসহাক আজাদ। এর কিছুদিন আগে মোটর বাইক দূর্ঘটনায় এক তরুণ নিহত হয়।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের দু’পাশে ঝোপঝাড়ের কারণে অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা সহজেই লুকিয়ে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এ সড়ক হয়ে উঠছে ভীতিকর। যাত্রীরা চলছেন ছিনতাইয়ের ভয়ে, আর চালকরা দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে। সবচেয়ে আগাছা প্রবণ অংশ হচ্ছে সদাখাল সেতু থেকে দুবাগ সেতু পর্যন্ত।

এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী চালকরা বলেন, সড়কের টার্নিং পয়েন্টে ঝোপঝাড়ের কারণে একপাশ থেকে অপর পাশ দেখা যায় না। এতে যানবাহন ক্রসিং করতে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ বলেন, যেখানে ঝোপঝাড় বাড়ে, সেখানেই অপরাধ লুকিয়ে থাকার পথ খুঁজে পায়। রাস্তার পাশে যত্রতত্র ঝোপঝাড় শুধু সৌন্দর্যহানি ঘটাচ্ছে না, বরং অপরাধীদের আড়াল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। যেখানে আলো পৌঁছায় না, সেখানে নিরাপত্তাও হারিয়ে যায়।

অটো চালক সুজন ইসলাম বলেন, সড়কের দু’পাশে ঝোপঝাড় থাকায় আমাদের অটো চালাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। দিনের বেলায় ঝোপঝাড় থেকে গরু ছাগল হঠাৎ এসে সামনে পড়ে। ফলে তখন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি এই সড়ক পরিদর্শন করেছি। দ্রুততম সময়ে ঝোপঝাড় কাটতে উদ্যোগ নেয়া হবে।