চ্যাট লোড হচ্ছে...

জনবল ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকটে বিয়ানীবাজারে বেড়েছে জন্মহার

    বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 2, 2026 ইং 48 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:

জনবল সংকট, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অপ্রতুল সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে বিয়ানীবাজার উপজেলায় জন্মহার বেড়েছে। গত অর্থবছরে মায়েদের গড় সন্তানসংখ্যাও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকটের কারণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত হয়নি।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, মাঠপর্যায়ে পরিবারকল্যাণ সহকারী, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে একজন কর্মীকে একাধিক পদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবারকল্যাণ সহকারী জানান, তাঁর দায়িত্বাধীন ইউনিয়নে চার হাজার একশোর বেশি পরিবার রয়েছে। পাঁচটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে একটি পরিবারে সেবা দেওয়ার পর পুনরায় সেখানে যেতে প্রায় নয় মাস সময় লেগে যায়। অথচ পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ, দম্পতি নিবন্ধন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, মাতৃস্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ—সব কাজই তাঁকে করতে হয়।

উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে পরামর্শসেবা মিললেও প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দুই বছরে পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ প্রায় ৮৪ শতাংশ কমে গেছে। এর প্রভাব হিসেবে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, অনিরাপদ গর্ভপাত এবং মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী দুবাগ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতির সংকটে সেবার মান কমে গেছে। অনেক কেন্দ্রে রোগীর উপস্থিতিও কম।

বিয়ানীবাজার পৌরশহরের কসবা চালিকোনা কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা এক নারী বলেন, “পরামর্শ পেলেও প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ও সামগ্রী পাওয়া যায় না।”

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মনসুর আসজাদ বলেন, “গত অর্থবছরে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে। বিভিন্ন সংকটের কারণে মাঠকর্মীরা নিয়মিত বাড়ি-বাড়ি যেতে পারেননি। তবে সম্প্রতি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।”

জনস্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন গর্ভধারণ মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে নবজাতকের কম ওজন নিয়ে জন্ম, অপুষ্টি ও মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে কার্যকর রাখতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।