দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ছেলের বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে বিমানবন্দের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন কানাইঘাটের করিম উদ্দিন (৫৫)। সাথে ছিলেন তাঁর ২৩ বছরের ছেলে মোহাম্মদ আলী। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন গাড়িচালকসহ আরও তিন বাংলাদেশি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি:
জানা গেছে, তায়েফ থেকে ৫ জন বাংলাদেশি যাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি জেদ্দা বিমানবন্দর অভিমুখে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আল-খুরমা এলাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই করিম উদ্দিন ও গাড়িচালক খালিদ আহমদ (৬০)-সহ চারজন প্রাণ হারান। ভাগ্যক্রমে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান করিম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী, তবে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
নিহতদের পরিচয়:
নিহত করিম উদ্দিন এবং গাড়িচালক খালিদ আহমদ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা। নিহত অপর দুজনের বাড়ি কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জ জেলায়।
পরিবারে আনন্দের বদলে শোকের মাতম:
করিম উদ্দিন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রমের পর ছেলের বিয়ে দিতে দেশে ফিরছিলেন। বিমানের টিকিট হাতে নিয়ে হাসিমুখে ছেলের সাথে রওনা দিলেও নিথর দেহ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাঁকে। অন্যদিকে, ড্রাইভার খালিদ আহমদ নিজে দেশে ফিরছিলেন না; সহকর্মীদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে গিয়েই তিনি জীবনের শেষযাত্রায় শামিল হলেন।
খবরটি কানাইঘাটে পৌঁছালে নিহতদের পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের আসার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোতে আনন্দের মুহূর্ত এক লহমায় কান্নায় রূপ নিয়েছে।
দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। খবর পাওয়ার পরই আমি নিহতের পরিবারের কাছে গিয়ে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছি।"
বারবার দুর্ঘটনা, প্রবাসী পরিবারে আতঙ্ক:
উল্লেখ্য, কানাইঘাটের প্রবাসীদের ওপর যেন শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। চলতি বছরের জুনে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসী প্রাণ হারান। সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই গত জুলাইয়ে সৌদি আরবে আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এবার আবারও দুই প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়েই নেমে এসেছে শোক ও স্তব্ধতা।