জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত আসামির সকলকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মামলার রায় ঘোষণাকালে অভিযুক্ত সাতজন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে মারণাস্ত্র ব্যবহার, সহিংস কর্মকাণ্ডের নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। রাজপথে নেতাকর্মীদের নামিয়ে হত্যা, সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মতো অপরাধে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই সাজা ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই মামলার ফরমাল চার্জ আমলে নেন এবং চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়টি অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন, যা আজ চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হলো।