চ্যাট লোড হচ্ছে...

জৈন্তাপুরের বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন হুমকিতে রূপচেং-গুয়াবাড়ি গ্রামের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি, নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

    জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং 2 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পার্শ্ববর্তী রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বড়গাং নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। এমনকি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে পার কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। নদী থেকে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা হারে অর্থ আদায় করছে ঐ সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায়ের কার্যক্রম চলায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন। আরও অভিযোগ উঠেছে, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয়দের কাছে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে দাবি করছেন। এব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায় এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন কারা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে তাদের তথ্য পেলে ব্যবস্হা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নদীর তীরের কাছাকাছি থেকে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। নদী ভাঙনে তাদের আবাদি জমির পাশাপাশি বসতভিটাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর পার রক্ষা এবং কথিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে নৌকাপ্রতি অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার যে দাবি করা হচ্ছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন বড়গাং নদীর পারে রুপা মিয়া নামে এক ব্যাক্তির নেতৃত্বে প্রতিদিন বালুর নৌকা থেকে কমপক্ষে ২/৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হচ্ছে। রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করলে ২৬ অক্টোবর সোমবার বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার এসআই শওকত মাসুদ ভূইয়া বলেন আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। নদীর পার কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক বলে তিনি আরও বলেন, এখানে কেউ বলছে জায়গাগুলো মালিকানা আবার কেউ বলছে সরকারি। ফলে এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলমের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, নদীর পার কেটে যে জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হয় সেই জায়গার মূল মালিক আমাদের দাদা কালা রাজা মজুমদার। উত্তরাধিকার সূত্রে  রুপা মিয়া ইতোপূর্বে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে একটি অংশ ৫৩ লক্ষ টাকা দিয়ে সাব লিজ দিয়েছেন এবং বাকি অংশ থেকে তিনি ও তার বাহিনী নৌকা প্রতি ২ হাজার টাকা হারে আদায় করছেন। এখানে থেকে বালু বিক্রি যদি বৈধ হয় তবে আমরা কালা রাজা মজুমদার এর উত্তরাধিকার হিসেবে কেনো হিস্যা বঞ্চিত। আর যদি বালু উত্তোলন অবৈধ হয় তবে প্রশাসন কেনো ব্যবস্হা নিচ্ছে না।