বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজনের হাত বাঁধা এবং অন্যজনের পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বারইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের কবরস্থান থেকে অটোরিকশা চালক শামীম আহমদ ধনু (৪৭)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্থানীয় শুক্কুর আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১০টার দিকে গ্যারেজে তার চালিত সিএনজি অটোরিকশা রেখে বাড়ি ফেরেন শামীম। রাতের খাবার খাওয়ার পর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরদিন সকালে কবরস্থানে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে থাকা বিয়ানীবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহি উদ্দিন জানান, নিহতের শরীরে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, শামীমের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তার ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও গ্যারেজে রাখা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তিনি দুই ছেলে ও তিন কন্যাসন্তানের জনক।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এর আগের দিন, রোববার (৩১ মে) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার খাসাড়িপাড়া গ্রাম থেকে সাদিকুল ইসলাম রুপক (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মুক্তাদিরের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুপকের মরদেহ নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই হাত পেছনের দিকে বাঁধা ছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরপর দুই দিনে একজনের হাত বাঁধা এবং আরেকজনের পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিয়ানীবাজারজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, রহস্যজনক এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Misbah uddin