ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রোগী সুস্থ হতে এসে উল্টো অসুস্থ: জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

    জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ):
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 27, 2026 ইং 53 বার পঠিত
অবহেলা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে বেহাল দশা হাসপাতালের বাথরুম ও আশপাশের এলাকার। ছবির ক্যাপশন: অবহেলা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে বেহাল দশা হাসপাতালের বাথরুম ও আশপাশের এলাকার।
ad728

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই যেন এখন ‘অসুস্থ’। চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশ এলাকা পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব ও চারদিকে ছড়িয়ে থাকা বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বারান্দা এবং প্রতিটি দেওয়ালের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত প্লাস্টিক, স্যালাইনের প্যাকেট, ব্যবহৃত গজ-ব্যান্ডেজসহ নানা ধরনের মেডিকেল বর্জ্য। নিয়মিত এসব বর্জ্য অপসারণ না করায় তা পচে বাতাসে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাসপাতালের ভেতর নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে মশা ও মাছির উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা পুলক দে নামের এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছি। বেড ও বাথরুমের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সুস্থ করার আশায় রোগী নিয়ে এসে এখন আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সকাল-বিকেল কাজ করার কথা থাকলেও, আয়া বা মাসিরা সেদিকে খেয়াল না করে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অথচ ঠিকই বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।”

হাসপাতালে আসা অন্যান্য রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে বা বাইরে কোথাও শান্তিতে কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর মতো পরিবেশ নেই। দুর্গন্ধের কারণে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জগন্নাথপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির এমন নাজুক অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানো দুঃখজনক। তারা অবিলম্বে হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রায় বলেন, “হাসপাতালে প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমি বিষয়টি তদন্ত করে গাফিলতিকারী আয়াদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


নিউজটি আপডেট করেছেনঃ জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ):

কমেন্ট বক্স